একি হলো টাইটানের শেষ পরিনতি? টাকা দিয়ে মৃত্যু কিনলো তারা| what happened with titan? | where are the survivers right now? |mystery

 অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেল টাইটানিক দেখতে যাওয়া সেই টাইটান সাবমেরিনকে। কি হয়েছে তাদের শেষ অবস্থা? টাকা দিয়ে কি মৃত্যু কিনলো তারা? আসুন জানি আজকে। 

টাইটানের রহস্য সমাধান হলো
টাইটানের রহস্য সমাধান হলো টাকা দিয়ে কি মৃত্যু কিনলো? 



টাইটানিক ডুবে যাওয়ার ১১১ বছর পর নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে গেল এই টাইটান । টাইটান সাবমেরিন সম্পর্কে জানা এমন মানুষ হয়তো এখন আর নেই। কারণ এটা রীতিমতো একটা ভাইরাল টপিক। টাইটানিক কে দেখতে যাওয়া সেই টাইটান সাবমেরিন অনেকদিন যাবত নিখোঁজ । আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে টাইটানিক জাহাজের সেই ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাওয়ার জন্য একটি সাবমেরিন এর তৈরি হয়েছে। যা কিনা প্রায় ২০০৮ সাল থেকেই টাইটানিক জাহাজ দেখতে যাওয়ার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। 


টাইটান ,এই সাবমেরিনটি তৈরি হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে মজবুত লোহা দিয়ে। আর এই লোহা হচ্ছে টাইটানিয়াম ।আর এই লোহা দিয়েই কিন্তু তৈরি হয়েছে টাইটান। যা কিনা টাইটানিক জাহাজ দেখতে যাওয়ার জন্য এত খরচ করে বানানো হয়েছে। আর আপনারা জানলে আরো অবাক হবেন যে,এই টাইটানিক জাহাজ দেখতে যাওয়ার জন্য জন প্রতি খরচ পড়ে বাংলাদেশের টাকায় আড়াই কোটি টাকারও বেশি। অনেক বছর ধরেই টাইটানিক জাহাজ দেখতে যাওয়ার অভিযান হিসেবে কাজ করছে। একটি কোম্পানি এই কাজটি করছে। তারা একটি সাবমেরিনের সাহায্যে মানুষদেরকে টাইটানিক দেখায়। এইখানে তারা এই টাইটানিক দেখায় মোট পাঁচ দিন সময় নিয়ে। মানে এই টাইটানিকের মধ্যে মোট পাঁচজন লোক থাকবে পাইলট সহ। তারা তারা পাঁচদিন বাঁচানব্বই ঘন্টার খাবার এবং পানিও তাদের সাথে নিয়ে যায়। এখানে যাত্রী থাকে মোট চারজন। 


এইখানে সব যাত্রীরা অনেক কোটিপতি। কারণ কোন সহজ ব্যক্তি কিন্তু টাইটানিক ভ্রমনে যেতে পারবেনা। ১০০ বছরেরও বেশি আগে টাইটানিক ডুবে যাওয়া সেই জাহাজে দৃশ্য এখনো মানুষ দেখতে যায়। যেহেতু এইটা খুবই ব্যয়বহুল একটা কাজ, তাই অনেক ধনী ব্যক্তিরা এইটা করতে পারে। যে চারজন মানুষ গিয়েছিল এই এক্সপেরিয়েন্স করতে তার মধ্যে তিন জনই ছিল ইংল্যান্ডের। এমনকি একজন তো ছিল বাবা এবং ছেলেও। তারা পাকিস্তানি হলেও তারা ইংল্যান্ড থেকে গিয়েছিল সেখানে। আর এই টুর টা  কিন্তু অনেক লং একটা টুর। আপনারা জানেন অবাক হবেন যে এই সাবমেরিনের ছিল ওশান গেটের সিইও যিনি টাইটান কে অপ্রতিরোধ্য বলে দাবি করেছিলেন। মানে তিনি বলেছিলেন যে এই টাইটানের আর কখনোই কিছু হবে না। যেমনটা বলেছিলেন টাইটানিক জাহাজের নির্মাতা। কিন্তু দেখেন দুইটার একটারও কিন্তু রক্ষা হলো না। 


আর আপনারা জানলে অবাক হবেন যে এই টাইটান এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে কিন্তু টাইটানিক জাহাজের কাছেই। এই সাবমেরিন টি  প্রায় ছিন্ন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অবস্থায় পড়েছিল । আর এইখানে প্রায় তিন কোটি টাকার টিকেট কেটে চারজন মানুষ যায় সুতরাং আপনারা বুঝতেই পারছেন এই ট্রিপটি কত ব্যয়বহুল ।একবার টাইটানিক জাহাজ দেখতে যাওয়ার জন্যই সবাইকে প্রায় দিতে হয় ১২ কোটি টাকার মতো। এমন জায়গায় আছে টাইটানিক জাহাজটা যেখানে কিনা পৌঁছায় না সূর্যের আলো। টাইটানিক জাহাজটা এমন এক জায়গা আছে যেখানে কিনা পানির চাপ অনেক বেশি। যেখানে পানি প্রায়  গভীর নীলচে কালো রঙের। নিজের হাতটাও দেখা যায় না পানির মধ্যে। এইরকমই একটা ব্রেথ  টেকিং এক্সপেরিয়েন্স। আপনারাই বলুন তো তারা যদি জানত যে তাদের অবস্থা এই রকম করুন হবে তারা কি কখনো এইভাবে যেত সেখানে?


ধারণা করা হয়ে থাকে যে এই টাইটান দুই ঘন্টা রাস্তার , ১ঃ৪৫ মিনিট পর মাদারশিপ এর সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পরেই পানির নিচে পানির এবং স্রোতের প্রবল চাপের ধ্বংস হয়ে যায়। আর পর্যটকদের দেহ ছিন্ন বি,চ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখানে আরো একটা কথা হচ্ছে যতটা গতি নিয়ন্ত্রণ করে যাওয়ার কথা তার চেয়ে তারা বেশি গতি নিয়ন্ত্রণ করে গিয়েছিল। তাই চাপের পরিমাণটা বেশি হয়ে গিয়েছিল। যেখানে তাদের টাইটানিকের কাছে যাওয়ার সময় প্রায় দুই ঘন্টা সেইখানে এক ঘন্টা ৪৫ মিনিট পরেই তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এইটা কিন্তু প্রায় দুইবার টাইটানিকের কাছে এই পর্যন্ত অভিযান করেছে। তৃতীয়বার শেষ হোক আর হয়ে ওঠেনি। সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা হলো এর ভিতরে কিন্তু টয়লেট ছিল না ছিল না কোন দরজা। প্রাকৃতিক কাজে সারবে তার জন্য শুধুমাত্র পর্দা টেনে নিতে তারা। সাবমেরিনটা এমন একটা জায়গা ছিল যেখানে কিনা তারা  দাঁড়ানোর জায়গা পেত না। খুব কষ্টেই পাঁচ জন মানুষ বসে কাটাতো। বরং এই সাবমেরিনটা কন্ট্রোল করা হতো রিমোট কন্ট্রোল এর মত একটা কন্ট্রোলার দিয়ে। পানিতে নামার আগেই থেকে নাট সব টাইট দিয়ে দেয়া হয় এবং ভেতর থেকে আর কোন দরজা নেই। আপনারাই ভাবুন এটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ একটা ভ্রমণ। 


এতকিছু পরও সবকিছু জেনে শুনে কেনই বা মরণ ফাঁদে তারা পা দিতে গেল জানিনা আসলে। কেনই বা তারা গেল এই মৃত্যু ফাঁদে? পুরো পৃথিবীর সবাই তাদের কথাই ভাবছে। কিন্তু তাদের অবস্থা টাই বা তখন কেমন ছিল? সেইখানে তাদের অবস্থা এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে তাদের দেহের শেষ অংশটুকু খুঁজে পাওয়া যায়নি। পানির চাপে বা প্রেসারে তাদের সবকিছু একদম ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শরীরে কোন অংশই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে মাত্র কিছু সাবমেরিনের অংশ। এই টাইটানিক এর কাছে কতই না সমাধি রয়েছে ১০০ বছর আগের। আরো কিছু মানুষের সমাধি। সবাই ধারণা করেছিল সাবমেরিন ভেজাল মুক্ত ছিল। আদৌ কি এইটা ভেজাল মুক্ত ছিল? যেই মানুষগুলো মারা গেল তাদেরই বা মনের অবস্থাটা কেমন ছিল? 


একবার ভাবুন তো এই কোটি টাকা দিয়েও কিন্তু তারা তাদের জীবন ফিরিয়ে আনতে পারল না। যাওয়ার সময় কথা হাসিমুখেইনা ছিল। কিন্তু যখন তারা তাদের অবস্থা বুঝতে পারলো তখন তাদের কি অবস্থা হয়েছিল তা কেবল আল্লাহই জানেন? মৃত্যু কিভাবে মানুষদের কাছে টানে তা বলা যায় না। এই সকল ধনী ব্যক্তিরা যদি জানত যে তারা আর ফেরত আসবে না তাহলে হয়তো তারা টাকা ছাড়াও এই এক্সপেরিমেন্ট করতে যেত না। তারা যদি জানত যে তাদের সারা জীবনের টাকা দিলেও তারা বেঁচে ফিরতে পারবে হয়তো তারা সেটাই করত। এই যে তাদের হঠাৎ মৃত্যুটা আমাদেরকে অনেক কিছুই শিখিয়ে গেল। 


খোলা আকাশের নিচে শ্বাস নিতে পারা এবং নিজের জীবনকে উপভোগ করা যে কতটা শান্তি তাই তারা আমাদেরকে দেখিয়ে দিল। টাকা থাকলেই যে সবকিছু করা যায় না তাই তারা আমাদেরকে বুঝিয়ে গেল। তারা কিন্তু  টাকা দিয়ে একটুখানি অক্সিজেন কিনতে পারল না তারা কিন্তু পারল না তাদের জীবনটা বাঁচাতে। ফের ১১১ বছর পর আবারো এক ইতিহাস ঘটে গেল সেই টাইটানিককে নিয়েই। একটু বেবি দেখুন তো বেঁচে ফিরে আসার জন্য কত কষ্টই না করেছিল তারা? আমরা সব সময় শুধু টাকা ,একটা জীবন, আর সুখ, চাকরি এগুলোর পিছনেই দৌড়াতে দৌড়াতে মৃত্যুর পথযাত্রী হয়ে যায় কিন্তু আমরা একবার বলি না যে আলহামদুলিল্লাহ আমরা যেখানে আছি অনেক ভালো আছি। 


আর আমাদের উচিত টাকার পিছনে না দৌড়ে নিজেদেরকে সময় দেওয়া নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করা।টাইটানিক জাহাজের এই মর্মান্তিক দৃশ্যটা আমাদেরকে এই শিক্ষা টাই হয়তো দিয়ে গেল ।কোটি টাকা থাকলেও কিন্তু আমরা আমাদের জীবনকে এক মিনিটের জন্য কিনতে পারবো না ।তাই টাকার পিছনে না দৌড়ে আমাদের উচিত সুখের পিছনে দৌড়ানো ।এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপনি কি যেতেন কোটি টাকা ইনভেস্ট করেন নিজের জীবনকে বাজি রাখতে এবং  এইরকম এক্সপেরিমেন্ট করতে? 

Post a Comment

0 Comments