টাইটানিক জাহাজ কি আসলেই অভিশপ্ত? |এখন কোথায় আছে টাইটান সাবমেরিন?|untold story about titanic | what happened with titanic |Where is titan submarine now?

 টাইটানিক জাহাজ কি আসলেই অভিশপ্ত? টাইটানিক জাহাজ দেখতে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল টাইটান এর পাঁচজন সদস্য।খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এখনো সেই সাবমেরিন টাইটানকে । এখন কোথায় আছে সেই টাইটান?


টাইটান কিভাবে আর কেনো ডুবলো?
টাইটানিক জাহাজ কি আসলেই অভিশপ্ত? কেনো ডুবলো টাইটান?


 টাইটানিক ছবিটি দেখেনি বাট টাইটানিক ছবি সম্পর্কে জানেনা এমন মানুষ কিন্তু খুব কমই আছে।আর এই টাইটানিক জাহাজ সম্পর্কে কিন্তু মানুষের কৌতুহল ও অনেক বেশি ।টাইটানিক জাহাজটি যখন ভেঙ্গে পড়ে তখনের সিনটা যে কতটা কষ্টদায়ক তা কিন্তু মুভি লাভাররা সবাই দেখেছে।নায়ক এবং নায়িকার বিচ্ছেদের ঘটনাটা সবচেয়ে কষ্টদায়ক ছিল ।এবং এই টাইটানিক মুভিটা কিন্তু একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে ।সুতরাং সে জাহাজের যে দৃশ্যটা আছে সেটাও কিন্তু একটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে ।সেই জাহাজের ডুবা এবং ধ্বংসাবশেষ টা কিন্তু এখনো সমুদ্রের নিচে আছে ।


 মুভি ইন্ডাস্ট্রি তে ইনকাম করা একটা বেস্ট মুভি হচ্ছে টাইটানিক। আর এই টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ কিন্তু ডুবে আছে এখনো। টাইটানিক মুভি লাভারদের প্রতি টাইটানিক জাহাজের ভালোবাসাটাই অন্যরকম।এই জাহাজ কিন্তু এখনই দেখতে যেতে পারে সবাই। সেই জাহাজের ভালোবাসার জন্যই কিন্তু এত বছর পরও মানুষ সেই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যায় এখনো ।তবে যদিও এটা অনেক বেশি কৌতুহলের একটা কাজ কিন্তু এইটা কিন্তু খুবই রিস্ক একটা এক্সপেরিমেন্টও বলা যায়।আসুন জেনে নেই কোথায় আছে সে টাইটানিক জাহাজটা । 


আপনারা জানেন টাইটানিক জাহাজটা এখন কোথায় ডুবে আছে?

কানাডার নিউ ফাউন্ড ল্যান্ড এর  কোস্টাল  লাইন থেকে প্রায় ৪০০ মাইলেরও দূরে সমুদ্রের নিচে। সেখানেই রয়েছে আটলান্টিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ।সুতরাং এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে আটলান্টিক মহা সমুদ্রের  প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার গভীর জলের নিচে। যেখানে কিনা আলো পৌঁছানো খুবই কষ্টকর ।সুতরাং শহরের অনেক বেশি গভীরে কিন্তু টাইটানিক জাহাজটা এখন আছে ।তবুও মানুষের যেন কৌতূহলের কোন শেষ নেই ।কোটি কোটি টাকা খরচ করে দেখতে যায় এই টাইটানিক জাহাজটি ।


একটা কোম্পানি আছে যারা টাইটানিক ট্যুরিজম করে সেটার নাম হচ্ছে ওশনগেট ।তারা টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখিয়ে দেয় অন্যান্য মানুষদেরকে। যদিও এটা অনেক মানুষরাই চাইলে করতে পারে তবে এর ব্যায়বহুলও কিন্তু অনেক বেশি। আর এই প্যাকেজটা হলো আট দিনের। এই আট দিনের মধ্যে তারা আপনাকে টাইটানিকের সব জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ঘুরিয়ে দেখাবে এবং এবং তাদের সাথে থাকবে খাবার এবং যাবতীয় যা সব জিনিস দরকার। তবে এটা কিন্তু রীতিমতো একটা ব্রেথ টেকিং এক্সপেরিয়েন্স। 


এখন আপনারা অনেকেই ভাবতে পারেন এত গভীর সমুদ্রে কিভাবে যাবে তারা?এই প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যায়। আসুন সেটার বর্ণনাই দিচ্ছি আমরা।প্রথমে কানাডা থেকে জাহাজে করে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে যে টাইটানিক ডুবার জায়গাটায় আছে সেখানে নিয়ে যাবে। এইখানে নদীর নিচে টাইটানিক জাহাজটা ডুবে আছে । তারপর উপর থেকে সেখান থেকেই একটা ছোট্ট সাবমেরিন এ করে নিয়ে যাবে প্রায় সারফেস থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার গভীরে যেখানে কিনা আপনাদের সাথে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের মুখোমুখি করা হবে। 


যাক বর্ণনা তো দেয়া হলো তবে বলা যায় এইটা আমাদের চাওয়ার বাহিরে। কেননা আগেও বলা হয়েছে  এটা মারাত্মক এক্সপেন্সিভ একটা প্যাকেজ। আর আপনারা এখন অবাক হবেন শুনলে যে এটা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার উপরে লাগে এই প্যাকেজটিতে। তো বলাই বাহুল্য যেটা আমাদের সাধ্যের বাহিরে। তবে অনেক বিলিয়নের মিলিয়নার আছে যারা কিনা এই ধরনের ট্যুর দিয়ে থাকে। কিন্তু কেইবা জানতো এই টুরই বা হতে পারে তাদের শেষ ট্যুর। 


মিলিয়ন আর বিলিয়নরা সাবমেরিন এ করে এই টুর  টি দিয়ে থাকে। আর এই সাবমেরিন টার নামই হচ্ছে টাইটান। টাইটানিক জাহাজের সাথে মিলিয়ে এই নামটি রাখা হয়েছে টাইটান। তবে কে জানতো এই টাইটার নাম কি হয়ে যাবে তাদের জন্য কাল ।আর এই সাবমেরিনটা খুবই ছোট বা মাইক্রো সাইজের একটা সাবমেরিন। জাতে টেনেটুনে পাইলট সহ মোট পাঁচজনের জায়গা হবে। সুতরাং চারজন টুরিস্ট এটা যেতে পারবে। এইরকম করেই কিছু টুরিস্ট সেই টাইটান করে টাইটানিক জাহাজটি দেখতে গিয়েছিল। তবে সমস্যা বাঁধলো একটা জায়গায় ।


গত রবিবার সকাল বেলায় এই ভাবেই টাইটান করে চারজন টুরিস্ট দল পাইলটসহ টাইটানিক দেখতে নেমেছিল। যার খরচ কিনা অনেক বেশি। না, আমার কিছুক্ষণ পরেই ঘটল এক বিপদ। আর কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। টাইটানের আর কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। না আছে কোনো সিগন্যাল সাথে, নেই কোন ভিশন ,কিচ্ছু নেই, পুরোপুরি ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে টাইটান।এই কাহিনী এখন পুরো বিশ্বজুড়ে ভাইরাল ।আরো ভয়ংকর কথা হচ্ছে এই টাইটানে বড়জোর ৫ দিন বা ছিয়ানব্বই ঘণ্টার অক্সিজেন সরবরাহ আছে। আর যেহেতু এই টাইটান  খুবই ছোট সাবমারিন সেহেতু এখানে খাবার  পানীয় কিন্তু খুব বেশি নেই।তাই সবার আতঙ্কই এখন অনেক বেশি । 


যেহেতু  অনেক ধনী ব্যক্তিরা এই সাবমেরিন এ আছে সেহেতু অনেকেরই রীতিমতো ঘুম হারাম। আর এখন তো অনেক রেসকিউ মিশনে নেমেছে। আমেরিকা এবং কানাডা কোস্ট কার্ড নেভি নেমেছে। তবুও তাদের কোন ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না।এত অভিজ্ঞ টিম নেমেছে তাও তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না  ।তারা যদি মারাও যেত বা কোন কিছু হত সেইটা আরো কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ।তাদের ভিসন  কাজ করছে না  এমনকি কোন কিছুতেই তাদেরকে ট্রেস  করা যাচ্ছে না ।


এই সাবমেরিন এ তিনজন লোক আছে যারা কিনা ইংল্যান্ডের। এদের মধ্যে একজন হচ্ছে বিলিয়নিয়ার হামিস হার্ডিং। এবং আরেকজন ও আছে পাকিস্তানের বর্ন বিজনেস টাইকোন  দাউদ এবং তার ছেলে।যারা কিনা বিশাল ধনী ব্যক্তি ।কারণ কোন ধনী ব্যক্তি ছাড়া প্রায় আড়াই কোটি টাকার উপরে টাকা দিয়ে এই এক্সপেরিমেন্ট কেউ করার সাহস পাবে না । এই সকল ধনী ব্যক্তিরা এখন সবাই নিখোঁজ। ভাবুন তো একবার তারা যদি জানত যে তারা নিখোঁজ হয়ে যাবে আর ফেরত আসবে আর তাহলে তারা কি কখনো যেত এখানে?


এই বিলিয়নেরা যদি জানত যে তাদের জীবন টাকার বিনিময়  বাঁচানো যাবে তাহলে তারা হয়তো তাদের সব টাকাই এই পাঁচ দিনের শেষ করে ফেলত ।কোটি টাকার ইনভেস্ট করতে গিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে এই ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে এখন নিজেরাই কিন্তু আর ফিরছে না ।ভাবলেই অবাক লাগে কত কষ্টেই না তারা এখন আছে একটু বেঁচে ফেরার জন্য তাদের কতই না আকুল ।



এখন তো অনেকেই টাইটানিক ডুবে যাওয়ার সে অঞ্চলে আরেকটা গাঁথা রচিত করছে। অনেকেই এখন ভাবছে যে টাইটানিক ব্যাপারটা হয়তো আসলেই মৃত্যু ডেকে আনে। আসলেই কে টাইটানিক নামটাই কিছু আছে যা শুধুমাত্র মৃত্যুই ডেকে আনে? টাইগার নামটাই কি ভেজালের? নাকি এই ব্যাপারটাকে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র একটা ইন্সিডেন্ট বলে ধরা যায়। আদৌ কি টাইটান আর ফেরত আসবে না? নাকি কোন এক অলৌকিক উপায় টাইটানকে আবারো খুঁজে পাওয়া যাবে। বলা যায় এতদিন হয়ে গেল যেহেতু খুঁজে পাওয়া যায় নাই, এতদিনে তাদের পানি এবং খাবার সব শেষ।তারা যদি পারতো তাদের সারা জীবনে টাকা দিয়েও তাদের জীবনটা ফিরিয়ে নিয়ে আসতো ।কিন্তু জীবনটা কতই না ক্ষুদ্র ।তারা হয়তো ভাবতেও পারেনি যে তাদের জীবনটা ঠিক এইভাবে একটা এক্সাইটমেন্ট এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে শেষ  হয়ে যাবে  । এই টাকার জন্য আমরা কতই না টাকার পিছনে দৌড়াই ।নিজের সুখ দুঃখ সব কিছু বিসর্জন দিয়ে টাকার পিছনেই দৌড়াই ।কিন্তু সেই টাকা কি আমাদের জীবনের এক মুহূর্ত ফেরত দিতে পারবে?


 এখন শুধুমাত্র কোন মিরাকেলি পারে তাদেরকে বাঁচাতে।কারণ এখন তারাই জানে যে তারা কিসের মধ্য দিয়ে আছে আদৌ কি তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে ।এত ছোট একটা সাবমেরীনে মাত্র পাঁচ দিনে খাবার বা পানি রাখা যায় ।সেইখানে প্রায় পাঁচ দিনের বেশি হয়ে গিয়েছে তাই এখন বলাই যায় তারা হয়তো বা বেঁচে  নেই ।বা হতেও পারে কোনভাবে হয়তোবা তারা বেঁচে গিয়েছে ।তবে এখনো কোনো উদ্ধারকর্মীরা তাদের কে উদ্ধার করতে পারেনি ।আপনারাই বলুন তো সত্যিই কি টাইটানিক নামটাই ভেজাল ?নাকি এটা শুধুমাত্রই একটা ছোট ইন্সিডেন্ট ? একটা কথাই বলা যায় টাইটানের জন্য প্রার্থনা। 

Post a Comment

0 Comments