মাত্র ৭ দিনে ভাঙা-ফাটা চুলকে, Silky & Smooth করে তুলুন || Silky Hair Tips | Hair Fall Solution

 সুন্দর চুল কেই না পছন্দ করে?

আর সাথে যদি হয় স্মুথ এবং সিল্কি তাহলে তো কথাই নেই। তবে এগুলো করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট এর জন্য অনেক টাকা খরচ করে ফেলি। আজকে জানবো কিভাবে অল্প টাকা দিয়ে ঘরের কিছু উপাদান দিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে আপনারা কিভাবে আপনাদের চুলকে এত সুন্দর করতে পারবেন। 

Hair fall Solution
মাত্র ৭ দিনেই আমার নিজের ফলাফল


ছেলে মেয়ে উভয়ের চুল কিন্তু অনেক পছন্দের। চুল পছন্দ করে না এমন মানুষ কিন্তু কমই আছে। নিজের চুলের যত্ন নিতে নিতে অনেক টাকাই খরচ হয়ে যায়। তারপরও মন মত ফলাফলটা পাওয়া যায় না।

 চুলের পেছনে আমাদের চলে যায় অনেক অনেক টাকা। আর তাও আমরা আমাদের মনমতো প্রোডাক্টটি খুঁজে পাই না। 

বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট খুঁজেও আমরা স্যাটিস্ফাইড হতে পারি না। কিন্তু আমরা যখন দেখব ঘরে বসেই কিছু উপকরণ দিয়ে আমরা মন মত সিল্কি করতে পারবো তখন তো আর এর কোন জুড়ি নেই। চুল সুন্দর এবং সিল্কি করার জন্য আমাদেরকে সবসময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। তবে এর পাশাপাশি কিছু উপকরণ আছে যেগুলো চুলে  দেওয়া দরকার। আমাদের কিন্তু চুলের অনেক পুষ্টি দরকার। তবে আমরা বুঝে উঠতে পারি না চুলে আমরা কি কি ব্যবহার করব। অনেক প্রোডাক্ট আছে যেগুলো ব্যবহার করলে চুলের উলটো ক্ষতি হয়। তাই যে কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার করার আগে আমাদের অনেক সতর্ক হওয়া দরকার। 


মেয়েরা বেশিরভাগই কিন্তু চুল সিল্কি পছন্দ করে, কোকরা চুলের চেয়ে বেশি। তবে সবার চুল কিন্তু পুরোপুরি সিল্কি হয় না। এমনকি অনেকের চুল একটু বড় হলেই রুক্ষতার অভাবে ভেঙে পড়ে যায় ।তাই চুলকে সিল্কের সাথে সাথে রুক্ষতা যেন না হয় সেই দিকটাও খেয়াল রাখা দরকার। খাবার দাবারের ওপরও আমাদের চুলের পুষ্টি অনেক নির্ভর করে। তাই আমাদের উচিত খাবারও ঠিক মত মেইনটেইন করা। অনেক মেয়েরই চুল স্ট্রেট করার জন্য অনেক ধরনের উপাদান ব্যবহার করে থাকে। যার ফলে ভবিষ্যতে তাদের চুল ভেঙ্গে পড়ে যায়। 

আজকে আপনাদের বলব কিভাবে ঘরে বসেই চুলের যত্ন নিবেন। কোথাও যাওয়ার আগে আমরা আমাদের চুলকে ঠিক করতে অনেক কিছু ব্যবহার করে থাকি ।তবে আমাদের কিন্তু এত বেশি কিছু ব্যবহার করার কোন দরকার নেই। 


ঘরে থাকা কিছু উপকরণ দিয়েই আপনারা  পার্লারের মত হেয়ার ট্রিটমেন্ট করতে পারবেন বাসায় বসেই। যাদের এই কোন ধরনের কেমিক্যাল। কেমিক্যাল ব্যবহার করা চুলের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। এটা ক্ষণস্থায়ী কিছু উপকারিতা দিলেও  পরবর্তীতে এটা কেবল ক্ষতিই বয়ে আনে। তাই চুলে  কিছু ব্যবহার করার আগে আমাদের অনেক সতর্ক থাকা দরকার। আর খেয়াল করা দরকার যে কেমিক্যাল টা আমাদের চুলে সুট করবে কিনা। 

আমরা বুঝতেই পারি না যে কোন কেমিক্যালটা আমাদের চুলের জন্য ক্ষতিকর আর কোনটা ভালো। তাই আমরা যদি কেমিক্যাল মুক্ত জিনিস ব্যবহার করি তাহলে আমরাও সেফ থাকবো আমাদের চুলও ভালো থাকবে। তাইয়া সবাই চেষ্টা করব কেমিক্যাল মুক্ত জিনিস ব্যবহার করার। আর সবসময় আমরা ঘরেই সবকিছু রেখে বাহিরে কেমিক্যালযুক্ত জিনিস ব্যবহার করতে চাই। তাই এখন থেকে ঘরের জিনিসকেই আমরা আমাদের চুলের কাজে ব্যবহার করব। এবং আমাদের চুলকে করে তুলব সিল্কি এবং স্মুথ। 


আসুন এখন আমরা জেনে নেই ঘরে থাকা কিছু রেমিডি দিয়ে কিভাবে আমরা আমাদের চুলকে করে তুলব মোট একদম পার্লারের মত।

 পার্লারে কিন্তু আমরা একের পর এক টাকা খরচ করে দেয় চুলকে সুন্দর রাখতে। যদি আমরা ঘরে বসেই পাই তাহলে তো আমাদের আর অন্য কিছুর দরকারি পড়ে না। আর আমাদের টাকাও বেঁচে যায় অনেক। সুতরাং এখন পার্লারের পিছনে টাকা খরচ না করে ঘরে বসে আমাদের উচিত নিজের চুলকে সুন্দর করার।

 আমরা কিভাবে হিয়ার প্যাক তৈরি করব তাই চলুন দেখি নেই।


প্রথমে আমরা নিয়ে নিব দুই টেবিল চামচ চালের গুড়া। চালের গুড়াটা যেন ভাল হয় সেইদিকে খেয়াল রাখবেন। আর চালের গুড়া গুলো যেন দলা পেকে না যায় সেটাও দেখে নিবেন। তারপর তার মধ্যে আমরা দিয়ে দিব এক কাপ পরিমাণ পানি। তবে এইটা যেন বেশি পাতলা না হয় সেইদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আর পানিটা অল্প অল্প করে দিবেন। যাতে করে ঘনত্বটা আপনারা বুঝতে পারেন। এবং আর এটা অল্প অল্প করে দেওয়ার ফলে আপনাদের ঘনত্বটা  বুঝতে সুবিধা হবে। এখন সুন্দর করে এটা মিক্স করে নিবেন। এমন ভাবে মিস করবেন যেন চালের গুড়াটা পানির সাথে একদম সুন্দর করে মিশে যায়। আস্তে আস্তে করে এটা মিশাতে হবে যাতে করে দলা পেকে না থাকে।

 দেখতে অনেকটা ঘন দুধের মত হবে। এবং মসৃণ হবে। এখন এই পানিটা আপনারা একটা দুধের পাতিল বা অন্য কোন প্যান এ নিয়ে নিবেন।

আস্তে আস্তে যখন এই পানিটা গরম হয়ে যাবে তখন আমাদের আসল কাজটা করতে হবে। তখন এই ব্যাটারের মধ্যে এক চামচ তিসি  দিয়ে দিবেন। এই তিসিটা দেওয়ার পরেই আপনারা পানিটা নাড়তেই থাকবেন। 

যাতে করে সম্পূর্ণ বেটার টা একদম স্মুত হয়ে যায় ।আর এই তিসি কিন্তু  যে কোন মুদির বা মসলার দোকানেই পাওয়া যায়। শুধু গিয়ে বললেই হবে যে আপনার তিসি লাগবে। তারপরই যখন আস্তে আস্তে পানিটা ঘন হয়ে যাবে তখন চুলার আঁচ কমিয়ে আনতে হবে। 

এবং আস্তে আস্তে এই পানিটা নাড়িয়ে হালকা ঘন করে নিতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে যখন দেখবেন হালকা ঘন হয়ে এসেছে তখনই এইটা নামিয়ে নিবেন। তারপর এই পানিটা হালকা হালকা যখন ঘন হয়ে যাবে তখন আপনার এটা একটা চাকরির সাহায্যে থেকে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। যাতে করে  দলা পেকে থাকলে, এমনকি তিসি গুলো ও আলাদা হয়ে যাবে। 

এত করে আপনার একটা স্মুত এবং ক্রিমের মতো একটা স্ট্রাকচার পাবেন। এখন আপনার চুল অনুযায়ী আপনি এই ব্যাটারটা আলাদা করে দিন। এত এত কম উপকরণ তারপরও কিন্তু এইগুলা আপনি প্রায় দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করতে পারবেন।

 এবং এইটা অনেক অল্প উপকরণ দিয়েই হয়ে যায়। এখন আপনি সেই কিম থেকে কিছু আপনার চুলের জন্য আলাদা করে নিন। আপনার চুলের ঘনত্ব এবং লম্বা অনুযায়ী ক্রিম দরকার। এখন আপনি যতটুক ক্রিম আপনার চুলের জন্য নিয়েছেন তার সাথে একটুখানি দই মিক্স করুন । আর পাশাপাশি আপনার মিশ্রণ টাকে হালকা করে নাড়তে থাকুন।আর ঘরে যদি লেবু থাকে সেখান থেকেও এক টুকরো লেবু এই মিশ্রণটায় দিয়ে দিন। যাতে করে আপনার চুলের পুষ্টি আরো বৃদ্ধি হয়ে যাবে। 

এখন আপনি ব্যাটারটা খুব সুন্দর ভাবে আস্তে আস্তে থাকুন। ব্যাস হয়ে গেল আপনার ব্যাটার তৈরি। 


এখন চুলে এপ্লাই করার পালা। এই ব্যাটারটা আপনার চুলে একটু একটু করে সম্পূর্ণটা দিয়ে দিন।

 সম্পূর্ণ চুলে দিতে হবে। তারপর আপনার প্রায় অপেক্ষা করতে হবে ৬০ মিনিট বা এক ঘন্টার মত। তবে এর মধ্যে যদি আপনাদের কারো কোন এলার্জি থেকে থাকে দইয়ে বা কোন কিছুতে তাহলে আপনারা এই মিশ্রণটা আরো কম সময়ে ইউজ করতে পারেন। 

তবে যেই যেহেতু এই সবগুলো প্রাকৃতিক উপাদান সেহেতু আপনাদের কারো কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। তোর সাইট মিনিট রাখার পর এখন আপনাদের চুলটা হালকা সেম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

একবার ব্যবহারের পরেই আপনারা বুঝতে পারবেন যে আপনারা কত সুন্দর একটা চেঞ্জ দেখতে পাচ্ছেন। আপনার চুল আগে থেকে অনেক বেশি সিল্কি হয়ে যাবে। তবে এই উপকরণটা সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতেই হবে। এতে করে আপনার চুলের পুষ্টি ঠিক থাকবে। আর অল্প উপকরণে তৈরি এই ব্যাটারটা কিন্তু আপনারা দুই তিন বার অনায়াসেই ইউজ করতে পারবেন।

 সুতরাং এটা যেমন সাশ্রয় তেমন উপকারী। এই মিশ্রণটা সপ্তাহে একবার হলেও ইউজ করতে হবে ভালো ফলাফলের জন্য। 

Post a Comment

0 Comments