ডেঙ্গু জ্বর থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার উপায়| ছোট ছোট কাজ করে ডেঙ্গু রোগ থেকে বাঁচুন|বাচ্চা সহ বড়দের কেনো ডেঙ্গু জ্বর এতো আক্রান্ত করছে?|how to be safe from dengue| why does dengue attacking old and baby|dengue recovery

 বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বর ঘরে ঘরে হচ্ছে। সব মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।বাচ্চারা অনেক বেশি এখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে।  ঘরে বসেই কিভাবে ডেঙ্গু জ্বর থেকে মুক্তি পাবেন তাই শেয়ার করব আজকে। 

ঘরে বসেই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করুন
ঘরে বসেই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করুন


বর্তমানে ছোট থেকে বড় সকল ধরনের মানুষরাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে অন্যান্য সময়ের তুলনায় এইবারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীরাও সুস্থ হচ্ছে অনেক দেরিতে। ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রায় 11 টি এলাকায় রেড জোন দেওয়া হয়ে গেছে। এবং অন্যান্য সময়ের তুলনায় ডেঙ্গুতে এইবার অনেক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবং এইবারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বলা যেতে পারে। 


প্রায় ৯০০ জন থেকেও আরো বেশি রোগী এখন হাসপাতালে ভর্তি এই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে রীতিমতো একজন মানুষ মা*রাও গিয়েছে এই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। হয়তো এখন এর ভয়াবহতা টা বুঝা গেছে।যদিও এই ডেঙ্গুটা অনেক সহজেই ছড়িয়ে যাচ্ছে এবং এর অবস্থা অনেক বেশি খারাপের দিকেই যাচ্ছে তবুও বলা যায় যে এই ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাওয়া কিন্তু খুব একটা কঠিন কাজ নয় ।আমরা চাইলে শুধুমাত্র কিছু কাজ করার মাধ্যমেই ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পেতে পারি। 


যেহেতু ডেঙ্গু রোগটা অতি সহজেই ছড়িয়ে যাচ্ছে তাই বেশ কিছু ব্যাপারে আমাদেরকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যদি আমরা সতর্কতার সাথে চলতে পারি তাহলে আমাদের ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। ডেঙ্গু রোগটা আমাদের জন্য অনেক ক্ষতিকর। বিশেষ করে ছোটদের এবং বৃদ্ধদের এই জ্বর এখন বেশি হচ্ছে। তাই যত সম্ভব তাদেরকে এর থেকে রক্ষা করতে হবে এবং নিজেদেরকেও সুস্থ থাকতে হবে। সম্প্রীতি দেখা যাচ্ছে বাচ্চারা অনেক বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে এবং যার ফলে অনেক অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। আর এই জোরে হঠাৎ মানুষ কাবু হয়ে যায়। তাই বাচ্চাদেরকে বেশি সতর্ক রাখা দরকার। 


ডেঙ্গুজ্বর রোধ করতে আমাদেরকে যেই কাজগুলো করতে হবে বাসায় তা আজকে আমরা জেনে নিব। ঘরে বসেই আমরা কিছু কাজ করলে ডেঙ্গু মশা আমাদেরকে আক্রান্ত করতে পারবে না। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমাদের চারপাশকে সঠিকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তার পাশাপাশি জানতে হবে কিভাবে ডেঙ্গু মশার ছড়ানো রোধ করা যায়। আমাদের ঘরে বসে যে কাজগুলো আগে থেকেই করতে হবে সেগুলো এখন আমরা জেনে নিব। আমরা যদি নিজেরাই সতর্ক হই তাহলে আমাদেরকে ডেঙ্গুমশা আক্রান্ত করতে পারবে না এবং আমাদের হাসপাতালে দৌড়াতেও হবে না। চলুন জেনে আমরা কি কি করব:


আমাদের বাড়ি চার পাশে দেখব যে কোন ধরনের ক্যান, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা নারিকেলের খোসা, বা কোন ভাঙ্গা বাটি, বালতি পড়ে আছে কিনা। যদি আমরা এই সমস্ত কিছু বাড়ির আশেপাশে পড়ে থাকতে দেখি তাহলে আমরা এই জাতীয় পাত্র নষ্ট করে দিব ।যার ফলে এইগুলাতে কোন ধরনের পানি জমতে পারবেনা। কেননা বাড়ির আশেপাশে জমে থাকা এই সমস্ত পানিতে ডেঙ্গু মশা ডিম পাড়ে এবং তাদের বংশবৃদ্ধি করে। এই সমস্ত পানি বাড়ির আশেপাশে পড়ে থাকলে সেই পানি অনেকদিন পরিস্কার না করার ফলে ময়লা হয়ে যায় এবং যার ফলে ডেঙ্গু মশা সহজেই এইখানে ডিম পাড়তে পারে। আর এই কৌটা বা বাটি নষ্ট করে দিলে সেখানে ডেঙ্গুর ডিম পাড়তে পারবেনা বা বংশবৃদ্ধি করতে পারবে না। 


শুধুমাত্র বাড়ির বাহিরেই না বাড়ির ভেতরেও আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। বাড়ির ভেতরে ওয়াশরুমে বা রান্নাঘরে আমরা পানি জমিয়ে রাখবো না। কারণ বাড়ির ভেতরে ওয়াশরুমে রান্না করে পানি জমিয়ে রাখলে সেইখানেও ডেঙ্গু মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ৭২ ঘন্টার বেশি আমরা কোন জায়গাতেই পানি জমিয়ে রাখবো না। কেননা পানিটা পুরাতন হয়ে গেলে তা আস্তে আস্তে ময়লা হয়ে যায় এবং মশার ডিম পাড়তে সুবিধা হয়। আর যদি ঘরেই মশা ডিম পেরে দেয় তাহলে তো এই রোগ হওয়া নিশ্চিত। সুতরাং বাড়ির বাহিরের পাশাপাশি ঘরেও আমাদেরকে স্বাস্থ্যসম্মত ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। আর যদি ওয়াশরুমে অব্যবহিত কোমড থাকে তাহলে তা নিয়মিত ফ্লাস করে দিতে হবে। অনেকের বাসায় অতিরিক্ত ওয়াশরুম থাকলে একটা ওয়াসরুম বেশি ব্যবহার করা হয় এবং অন্যটা করা হয় না যার ফলে কোমড ফ্লাশ করা হয় না নিয়মিত। এই সমস্ত কোমডেও কিন্তু ডেঙ্গু মশা ডিম পাড়তে পারে। তাই ওয়াশরুম কিছুদিন অব্যবহৃত থাকলেও কোমড প্রত্যেক দিন ফ্লাস করে দিতে হবে। 


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হচ্ছে আমাদেরকে নিজে বেশি বেশি পানি জাতীয় খাবার খেতে হবে। বেশি বেশি করে পানি বা শরবত খেতে হবে। যদি পারা যায় তাহলে প্রত্যেকদিন ডাবের পানিও খেতে হবে যাতে রয়েছে অনেক বেশি পুষ্টি। পানি ,শরবত ,ডাবের পানির পাশাপাশি কিন্তু অন্যান্য তরল জাতীয় খাবারও বেশি বেশি খেতে হবে। কেননা পানি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি কমে যায়। সুতরাং ছোট বড় সবারই বেশি বেশি পানি খেতে হবে। বেশি বেশি পানি খেলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এবং বেশি বেশি পানি খাওয়ার ফলে আমরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবো না।সুতরাং বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাইকেই বেশি বেশি পানি জাতীয় খাবার পান করা বা খাবার  দরকার ।


ডেঙ্গু মশা প্রতিরোধ করার জন্য আমরা কিন্তু সব সময় আমাদের দরজা জানালা অফ রাখতে পারিনা। আবার অনেক সময় দরজা জানালা সবকিছু অফ রাখলেও মশা যেকোনো ভাবে আমাদের ঘরে প্রবেশ করেই ফেলে। কিন্তু তখন আমরা ঠিক কি করব এবং কিভাবে নিজেদেরকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখবো তা জানাটাই হচ্ছে আসল বিষয়। এবং এই মশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সর্বদা আমাদের ঘরের মধ্যে মশারি বা ম্যাট,  মশা নিধনের জন্য স্প্রে, কয়েল রাখতে হবে। সব সময় ভালো ধরনের কয়েল ঘরে ধরিয়ে রাখতে হবে যাতে করে মশা ঢুকতে না পারে। প্রত্যেকদিন রাতে শোয়ার আগে অবশ্যই মশারির টানিয়ে রাখতে হবে যেন ঘুমানোর পর মশা কামড়ে না দেয়। মশার স্প্রে ঘরে রাখলে যে কোন সময় ঘরে মশা আসলে সেই মশাকে মেরে ফেলা যাবে স্প্রে করে। আর নিজের সাথে যদি মশা মারার ব্যাট রাখে তাহলে মশা কাছে আসলে তাকে মেরে ফেলা যাবে। 


এইগুলো অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় যা কিনা অনেক সহজ করা। এই ছোট ছোট কাজগুলো করেই কিন্তু আমরা আমাদের জীবনকে বাঁচাতে পারি। বলা যায় যে এই ছোট ছোট কাজগুলোর দ্বারাই আমরা আমাদের আশেপাশে ডেঙ্গুর উপদ্রব হওয়া থেকে মুক্তি পেতে পারি। এবং যার ফলে আমরা নিজেরা অসুস্থ থাকতে পারবো এবং আমাদের আশেপাশের মানুষ অসুস্থ থাকতে পারবে। ছোট্ট ছোট্ট এই কয়েকটা কাজ করলেই আমাদের পরিবারের সকল মানুষ ডেঙ্গুর জ্বর থেকে মুক্তি পেতে পারে। বর্তমানে ডেঙ্গু যেই পরিমাণে ছড়াচ্ছে তাই এ বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের অনেক সতর্ক হওয়া জরুরী। একবার ডেঙ্গু হয়ে গেলে তার থেকে মুক্তি পাওয়া অনেক বেশি কষ্টের।তাই প্রথম থেকে আমাদেরকে অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । ছোট ছোট বিষয় এগুলো খেয়াল রাখলেই আমাদের আর ডেঙ্গু জ্বর হবে না। এখনকার দিনে এই রোগের চিকিৎসাও অনেক দীর্ঘ সময় এবং ব্যয়বহুল। সুতরাং আমাদের দরকার আগে থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। সুতরাং সবাই এই কাজগুলোর দিকে খেয়াল রাখবেন এবং নিজেও সুস্থ থাকবেন পাশাপাশি অন্যদেরকেও সুস্থ রাখবেন। 

Post a Comment

0 Comments