ডিপ্রেশন, চিন্তা ও ঋণের সমাধান কোরআনে| একটি দোয়াই যথেষ্ট ||doa that remove Your anxiety and burden | relief from depression.

 আপনি কি ডিপ্রেশন, চিন্তা ও হীনমন্যতায় ভুগছেন? কোন কিছুতেই মনোযোগ বসছে না? নিজেকে একা একা ও অসুস্থ অনুভব হচ্ছে?চলুন দেখে নেই এই বিষয়ে কোরআন শরীফে কি উল্লেখ করা আছে।এবং  কিভাবে আমরা এর থেকে মুক্তি পেতে পারি। 


ডিপ্রেশন, চিন্তা ও ঋণের সমাধান
 ডিপ্রেশন, চিন্তা, ঋণ ও কষ্টের সমাধান কোরআনের মাধ্যমে


বর্তমান সময়ে ডিপ্রেশন অনুভব করা একটা রেগুলার রুটিন হিসেবে পরিণত হয়েছে ।এবং বেশিরভাগ কিশোর কিশোরীরাই তাদের দিন ডিপ্রেশন, চিন্তা ও হীনমন্যতায় ভুগে থাকে ।এবং এর জন্য অনেকেই মানসিক ডাক্তার দেখিয়ে থাকে ।এবং ডিপ্রেশনে থাকলে মানুষ নিজেদের কাজে মনোযোগ দিতে পারেনা ।এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে ।এখন এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি ?অনেকেই মনে করে এর কোন সমাধান নেই ।কিন্তু অনেকেই জানে না যে এর সমাধান আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ ১৪০০ বছর আগেই দিয়ে গেছেন ।



ভাবতেই অবাক লাগে যে প্রত্যেকটা জিনিসের সমাধান আমাদের ইসলাম ধর্মে কত সুন্দর করে দেওয়া আছে। যে সমস্যা গুলো আমরা আজকে ফেস করতেছি তার সমাধান ১৪০০  বছর আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।কত সুন্দর করেই না  সমাধান দিয়ে গিয়েছে আমাদের প্রত্যেকটা সমস্যার।এজন্যই হয়তো আমাদের ইসলাম ধর্মটা এত বেশি সুন্দর । বান্দার কথা চিন্তা করে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকটা জিনিসের সমাধান কুরআন শরীফে দিয়ে দিয়েছে ।



অতিরিক্ত চিন্তা মানুষের সুন্দর জীবনকে নিমিষেই কষ্টের করে তোলে ।এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না ।ফলে জীবন আরো অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে ।আপনার ডিপ্রেশন হীনমন্যতা ও একাকীত্ব বোধ দূর করার সমাধান আছে কোরআন শরীফে ।একটি দোয়ার মাধ্যমেই আমরা এই ডিপ্রেশন ও চিন্তা দূর করতে পারি ।আসুন জেনে নেই আসুন জেনে নেই কিভাবে কুরআন শরীফের মাধ্যমে এবং  হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলে যাওয়া দোয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের এই সমস্যা দূর করতে পারি  । 


আপনি কি জানেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও কিন্তু ডিপ্রেশনে ভুগেছেন? তিনি ডিপ্রেশন ,চিন্তা , হীনমন্যতা,ও  একাকীত্ববোধ থেকে দূর করার  জন্য একটা দোয়া পড়তেন ।এই দোয়াটা হযরত মুহাম্মদ সাঃ নিজেও পড়তেন এবং অন্যদেরকেও শিখিয়ে গিয়েছেন চিন্তা ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। আমাদের হযরত মুহাম্মদ সাঃ প্রত্যেক সকাল এবং বিকাল এই দোয়াটি পড়তেন এবং ডিপ্রেশন চিন্তা ও  একাকীত্ববোধ  থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতেন। এবং এই দোয়াটি তাকে সাহায্য করতচিন্তা থেকে মুক্ত করতে। চলুন এর পেছনের আরো কিছু কাহিনী আমরা জেনে নেই। 



মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এই দোওয়াটা প্রত্যেক সকালে এবং বিকালে পড়তেন নিজেকে প্রোটেক্স রাখার জন্য। এবং হযরত মুহাম্মদ সাঃ আমাদেরকেও তেমনটাই শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেছেন প্রত্যেকদিন এই দোয়াটা পড়ার জন্য যাতে করে আমরা।ডিপ্রেশন ,চিন্তা ও একাকীত্ববোধ থেকে দূরে থাকতে পারি। এই দোয়া হযরত মুহাম্মদ সাঃ  তার প্রত্যেক সাহাবীকেও শিখিয়ে গিয়েছেন ।কেউ যদি ঋণগ্রস্ত থাকে এবং তার চিন্তা থাকে অনেক মাথায় তাহলে সেই দোয়া পড়লে আল্লাহ তার ঋণ দূর করে দিবে এবং তার চিন্তাও দূর করে দিবে ।সুতরাং আপনারা বুঝতেই পারছেন যে এই দুয়ার গুরুত্ব ঠিক কতটা বেশি ।আর এই দোয়াটা খুব বেশি বড় না তাই আপনাদের মনে রাখত সহজ হবে ।



একদা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে  দেখলেন যে কিনা মন খারাপ করে বসে ছিল এবং  চিন্তাযুক্ত ছিল। তখন হযরত মুহাম্মদ সাঃ ওই ব্যক্তিকে বললেন আমি কি তোমাকে এটা শিখাইনি ? যা বললে আল্লাহ তাআলা তোমার সমস্ত চিন্তা দূর করে দিবে এবং তোমাকে ঋণ মুক্ত করে দিবে। তখন ওই ব্যক্তিটি উত্তর দিল, অবশ্যই হ্যাঁ ইয়া রাসুল আল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি তো আমাকে শিখিয়েছেন। অতঃপর মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলল যে তুমি এই দোয়াটি প্রত্যেকদিন সকালে এবং বিকালে পড়বে।দোয়াটি বাংলা উচ্চারণসহ লিখে দিচ্ছি যাতে আপনাদের মুখস্ত করতে সুবিধা হয় ।


দোয়াটি হলো ,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَأضَلَعَ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ


বাংলায় আরবি উচ্চারণ হল ,

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হা হাজান , ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল  খাঁছাল , ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখুল , ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিদ দাইন ও ওয়া কাহরীর রিজাল ।


দোয়াটির বাংলা অর্থ হলো,

ইয়া আল্লাহ আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি  চিন্তা এবং দুঃখ থেকে, আমি আপনার কাছে  আশ্রয় চাচ্ছি অক্ষমতা এবং অলসতা থেকে, আমি আপনার কাছ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি  ভীরুতা ও দুর্দশা  থেকে, আমি আপনার থেকে আশ্রয় চাচ্ছি ঋণে ডুবে যাওয়া থেকে এবং দুষ্ট লোকদের প্ররোচনা থেকে। 


এই দোয়ার অর্থ পরে হয়তো আপনার বুঝতেই পারছেন যে এই দোয়াটা কতটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর কেনইবা হযরত মুহাম্মদ সাঃ আমাদেরকে বেশি বেশি এই দোয়াটা পড়তে বলেছেন। ঋণে ডুবে থাকা ব্যক্তিরা এই দোয়াটা পড়লে তাদের ঋণ আল্লাহতালা দূর করে দিবেন। এমনকি তারা দূর হয়ে যেতে পারবে ডিপ্রেশন এবং চিন্তা থেকেও। এই দোয়া পড়লেআমরা আমাদের মাথা থেকে সমস্ত চিন্তা ভুলে যাব। এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের ঋণের বোঝা কম করে দেবে।  সুতরাং আপনারা বুঝতেই পারছেন যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই দোয়া আমাদের জন্য। 


আর প্রত্যেকদিন এই দোয়াটা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম আমাদেরকে পড়ার জন্য নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেছেন সকাল বিকালে এই দোয়াটা পড়লে আমরা আমাদের ডিপ্রেশন এবং তিনটা থেকে মুক্তি পাবো। সুতরাং যারা কিনা এখনই ডিপ্রেশন ,হীনমন্যতা, চিন্তা, একাকীত্ববোধ এবং ঋণের মধ্যে আছেন তারা এই দোয়াটা প্রত্যেক দিন দুইবার দুই বেলা পড়বেন। আশা করি আপনারা আপনাদের সমস্ত চিন্তা থেকে দূর হতে পারবেন। 



চৌদ্দশ বছর আগেই আমাদের ইসলাম কত কিছু শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে ।আমাদের নবী আল্লাহর  কাছ থেকে প্রত্যেকটা জিনিস জেনে আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন। এমনকি আল্লাহ তায়ালাও সবকিছুই কোরআন শরীফে বর্ণনা করে দিয়েছেন বান্দার সহজ-সরল জীবন যাপনের জন্য । এমনকি আজকালকার বিজ্ঞান ও কোরআন শরীফ কে ফলো করছে ।কোরআন শরীফের দেখানো পথে চলছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ।আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ  বছর আগে যখন কিনা বিজ্ঞান প্রযুক্তি কোন ছিটেফোটাও ছিল না । তখনই আল্লাহতালা সবকিছু কোরআন শরীফে লিখে দিয়েছেন ।তাই যেকোনো সমস্যা হলে আমাদের প্রথমে কোরআন শরীফ থেকে তার সমাধান বের করা উচিত । রোগবালাই ,দুঃখ কষ্ট ,চিন্তা ,বৈজ্ঞানিক সকল ধরনের সমস্যার সমাধান রয়েছে আমাদের কুরআন শরীফে ।সুতরাং আমরা কোরআন শরীফ দেখে আমাদের সবার সমাধান করব প্রথমে ।যেই সমস্যার সমাধান অনেক সময় অনেক ডাক্তারের কাছে গেলেও হয় না তা কোরআন শরীফের মাধ্যমেই আমরা পেয়ে যাই ।সুতরাং আমাদের জীবনে কোরআন শরীফের গুরুত্ব অনেক বেশি 



সুবাহানাল্লাহ । কত সুন্দরী না আমাদের এই ইসলাম ধর্ম।প্রত্যেকটা জিনিসের কত আলাদা আলাদা করে সুন্দর করে সমাধান দেওয়া আছে। সেজন্যই হয়তো আমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত। প্রত্যেকটা সব বড় থেকে ছোট সমস্যার সমাধান দেওয়া আছে আমাদের কোরআন শরীফে। যেই সাহাবীকে  হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন তিনি বললেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম আমাকে যে দোয়াটি শিখিয়েছিলেন এবং যেভাবে পড়তে বলেছেন আমি সেই ভাবেই করেছি , এবং আমি কসম করে বলছি, আল্লাহ তাআলা আমার সকল ঋণ এবং দুঃখ দূর করে দিয়েছেন। এমন কি আমাকে মৃত্যুর বোঝা থেকে দূর করে দিয়েছেন। 


সুবহানাল্লাহ ।প্রত্যেকটা জিনিসের কত সুন্দর করে সমাধান করে দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। সুতরাং আমাদের কোন রকম সমস্যা হলে আমরা প্রথমেই কোরআন শরীফের আলোকে তার সমাধান করার চেষ্টা করব এবং আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই আমাদের সমস্যা সমাধান করে দিবেন ইনশাআল্লাহ । আমি গর্বিত আমি একজন মুসলিম। 

Post a Comment

0 Comments