শয়তানের নৃত্য | কালোজাদুর আস্তানা| black magic ||devil dance

 আফ্রিকায় শয়তানের নাচ বা কালো জাদু নিয়েকিছু ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে রীতিমতো ।এইটাকে বলা হয় শয়তানের নাচ। যা কিনা তারা নিজেদেরকে সেভ করার জন্য করে। আসলেই কি এটা কোন শয়তানের নাচ নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোন রহস্য? আসুন সেইটা নিয়েই আজকে জানবো আমরা।


আফ্রিকার কালোযাদুর রহস্য ভেদ
আফ্রিকার কালোযাদু নাচের রহস্য ফাঁস

আফ্রিকার সম্প্রীতি শয়তানের নাচ নিয়ে একটা ভিডিও আমরা সবাই নিউজফিডে দেখতে পাচ্ছি। যেখানে দেখা যায় খড় টাইপ কিছু একটা মধ্যে অদৃশ্য শয়তান নাচানাচি করতেছে। এবং দেখা দেয় খড়গুলো ভিতরে আসলে কিছুই নেই। এইখানে স্টেপ বাই স্টেপ কিছু লোহা দ্বারা তারা গোল গোল করে একটা খরের মতো ডিজাইন করে যা কিনা ভিতরে খোলা থাকে। এবং এই ঘরের ডিজাইনগুলোর ভেতর সাইটটা কিন্তু পুরোই খালি থাকে।


আসুন জেনে নেই খড়  সম্পর্কে। আমরা গ্রামগঞ্জে অনেকেই দেখে থাকি গরুকে খাবার দেওয়ার জন্য সোনালী আঁশবিদ্ধ এক ধরনেরএক ধরনের জিনিস থাকে। যাকে কিনা খর বলা হয় এইগুলো অনেকগুলো একটার উপর একটা দিয়ে খরের একটা স্তুপ করা হয়। তবে এর ভিতরে সম্পূর্ণটাই খড় দিয়ে ভরা থাকে। সেই রকম নীতি অনুযায়ী ও  ডিজাইন অনুযায়ী এই শয়তানের নাচের ঘরটাও তৈরি করা হয়। যা কিনা দেখতে সেই রকম খর এর  স্তূপের মতোই তবে এর ভেতর সাইটটা পুরোই ফাঁকা।এবং সেইখানেই দেখানো হয় এই শয়তানের নৃত্য। 


আফ্রিকা হচ্ছে কালো জাদু সবচেয়ে বড় আস্তানা সেই খানের লোকেরা সবচেয়ে বেশি কালো জাদু করে থাকে। কালো জাদু করার সকল ধরনের সামগ্রী পাওয়া যায় আফ্রিকাতে। সেইখানে পাওয়া যায় না এরকম কোন জিনিস নেই। তারাই এই ধরনের জাদুগুলো করে থাকে। আমরা যেমন আমাদের কোন কিছু রক্ষা করার জন্য বা সেফ  থাকার জন্য আল্লাহর কাছে চেয়ে থাকি, তেমন তারা নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য শয়তানের নৃত্যের অনুষ্ঠান করে থাকে। ভাবতেই অবাক লাগে যে মানুষ এখন কতটা নিচু পর্যায়ে চলে গেছে। 


সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো এই ধরনের কালো জাদুতে এই ঘরের ভিতরে কোন মানুষই থাকে না। যে ঘরটা খড় দিয়ে তৈরি। আর ভিডিওতে অনেক বার দেখা গেছে যে ঘরটা এত বেশি স্পিডে ঘুরতে থাকে একদম মনে হয় সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে যাবে। সাথে সাথে হঠাৎ করে লম্বা হয়ে যায় হঠাৎ করে খাটো হয়ে যায়। এমনকি এই খড় এর  উপরে বিভিন্ন ধরনের রং দিয়ে তারা এটাকে সাজিয়ে থাকে উপরে শয়তানের মত সিং দিয়ে রাখে। অনেক অনেক মানুষ জড়ো হয় এই নাচ দেখার জন্য। এমনকি তারা শয়তানের কাছে প্রার্থনা করে তাদেরকে বাঁচানোর জন্য এবং তারা শয়তানের কাছে অনেক কিছু চায়। তারা চায়  তাদের মনের আশা যেন পূরণ হয়। আর এই ভিডিও দেখে রীতিমতো সবাই হতবাক। 


এই খড়গুলো নিজে নিজেই খুলছে বন্ধ হচ্ছে দেখানোর জন্য যে এর ভেতরে কিছুই নেই। এমনকি যখন কিনা বৃদ্ধ লোকেরা এর সাথে গিয়ে কথা বলে এর ভেতর থেকে নাকি শয়তানরা তাদের সাথে কথা বলে। এক ভিন্ন আওয়াজে ভিন্ন ভাষায় তাদেরকে কি যেন বলে। এই সমস্ত জিনিস দেখে অনেকেই প্রায় বিশ্বাস করতে বাধ্য যে শয়তানরা এই নাচ নাচে। তাদের নাচন এর ভঙ্গি এবং নিজেকে দেখানো যে ভেতরে কিছুই নেই এবং তাদের ভিন্ন ভাষায় কথা বলা সবকিছুই শয়তানের ইঙ্গিত দেয় এবং বোঝায় যে শয়তানরাই এই নাচ নাচায়। তবে সম্প্রীতি এর  সত্যি ঘটনা বের হয়েছে। 


এই কালো জাদুতে  দেখা যায় যে বিভিন্ন ধরনের পুতুল এবং কালো জাদু সামগ্রী ব্যবহার করে তারা কালো জাদুগুলো করছে। তারা ছেলে এবং মেয়ে বড় বড় পুতুলকে সাজিয়ে রেখে তারা কালো জাদুর উপকরণ গুলো ব্যবহার করছে। দেখা যায় যে ছেলে এবং মেয়ের পুতুল বানিয়ে তাদেরকে শয়তানের মত সাজায়। এবং তাদের মাথায় শিং বানিয়ে দেয় ।এবং তাদের উপরে সেই খর এর  ঘরটা রেখে দেয়।যার ফলে শয়তানের নৃত্য দেখা যায় ।তবে বেশিরভাগ মানুষের এটাকে সত্যি বলে ধারণা করছে। কারণ এর মধ্যে কোন ধরনের মানুষের চিহ্ন দেখা যায় না। আফ্রিকার মানুষরা এই ভাবেই কালো জাদু করে অন্য মানুষদের ক্ষতি করছে। 


কালো জাদু মানুষের জন্য অত্যন্ত বেশি ক্ষতি করে এই কালো জাদু মানুষকে মে,রেও ফেলতে পারে। বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে আমাদের এই পৃথিবীতে। বান মা,রা সহ বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু রয়েছে। বলা যায় একটা মানুষকে। বিভিন্ন তাবিজের মাধ্যমেও এই সমস্ত জাদু করা যায়। আর এইগুলো বেশি উপকরণ পাওয়া যায় আফ্রিকাতে। আর যখন দেখতে পেলাম এই ধরনের নাচ তখন কিন্তু সবাই প্রায় বিশ্বাসী করে ফেলেছে যে এইটাই হয়তো শয়তানের আসল নাচ ।


এখন আমরা জানবো এই শয়তানের নাচের আসল রহস্য। আসলে তারা শয়তানের পূজা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই গুজব গুলো রটাচ্ছে। কারণ এক ভিডিওতে এই নাচানাচিতে দেখা যাচ্ছে যে হঠাৎ করে একটি খড় উল্টে পড়ে গিয়েছে।যেহেতু সেখানে কোন মানুষ থাকারই কথা না হঠাৎ করেই দেখা যায় যে খরের রং এর সাথে শরীরের রং মিশিয়ে একটি শুকনা ছেলে সেখানে পড়ে গিয়েছে ।বলা যায় যে এই ঘরের যে চিকন আবরণটা আছে সেখানেই চিকন কোন ছেলেদেরকে দিয়ে এই নাচগুলো নাচানো হয়। আর মাপটা একদম পরিষ্কার রাখা হয় যাতে করে তারা পড়ে না যায় এবং তাদের এই খারাপ কাজগুলো ধরা না পড়ে।এবং দেখা যায় সে ছেলেটির রঙ কিন্তু প্রায় ঘরের রং এর মতোই করা । পাতলা আবরণের মধ্যে এই ছেলেগুলো লুকিয়ে থাকে। 


এরা কিন্তু খুব বড় ছেলে না এরা এদের বয়সটাও মাঝারি  বয়সের হয়ে থাকে। মাঝারি বয়সের হ্যাংলা পাতলা ছেলেদের কে বাছাই করা হয়  করা হয় যাতে করে তারা এই খড় এর  সাইডের  মধ্যে গিয়ে নাচ গুলো নাচতে পারে। যার ফলে যখন তারা এগুলো খুলে তখন কোন মানুষকে এর ভিতর পায় না। কেননা তার এক সাইডেই লুকিয়ে থাকে। যেহেতু এরা ছোট দেখতে এবং তাদের শরীরের ঘটনা অনেক পাতলা তাই তাদেরকে বাছাই করা অনেক কঠিন ।এই ভাবেই হঠাৎ করে একদিন এমন খড় উল্টে যায় এবং সেই খড় এর  স্তূপটি পড়ে যায়। তখনই দেখা যায় ছেলেটা হালকা-পাতলা নড়াচড়া করে। এবং মানুষ তখনই এটা বুঝে ফেলে। অনেকেই এটা এক দেখাতে বুঝতে পারবে না। কারণ ছেলেটি এতই পাতলা ছিল যে বুঝাই যায় না সেখানে কোন ছেলে আছে। এমনকি তাদের নাচের মধ্যে তাদের নিজেদের দেশবাসী ও এই চালাকি বুঝতে পারেনি।এইভাবেই তারা ভিডিও করে সেই ভিডিওগুলো পৃথিবীর তে ভাইরাল করে দিচ্ছে মানুষদেরকে শয়তানের পূজারী করার জন্য ।


ছেলেটির এইকাহিনী ধরা যেন না পড়ে তাই তারা অন্য এক কাজ করে। যখনই ছেলেটি মাঠে কোন কিছুতে উষ্টা খেয়ে পড়ে যায়। এবং ছেলেটি খড় এর ভেতর  থেকে একটু বের হয়ে যায়। তখন সেই পূজার লোকেরা দৌড়াদৌড়ি করে গিয়ে সেই ঘরের মুখী চাপ দিয়ে দেয় যেন কেউ বুঝতে না পারে যে ছেলেটি নড়াচড়া করছে। কিন্তু যেহেতু তারা ভিডিও করতেছিল তাই যে কেউ একজন সেই ভিডিওটি ভাইরাল করে দেয়। কিন্তু তাও এক দেখাতে কেউই বুঝতে পারবে না যে এখানে কোন ছেলে রয়েছে। আর তারা ভিডিওটি ঘোলা করে দেয় যাতে করে কেউ না বুঝতে পারে তাদের আসল রহস্য। তবে কথায় আছে সত্যি কখনো চাপা থাকে না। তারা এতদিন মানুষদেরকে যে বোকা বানিয়েছে তা শেষমেশ ধরা পড়লোই। এবং সবাই বুঝতেই পারল যে এইগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা  শয়তানের পূজা নামে যা করছে তা সম্পূর্ণই মানুষকে ধোকা দেওয়ার জন্য।


এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে আমরা অনলাইনে যা দেখবো তা তখনই বিশ্বাস করব না। কারণ এখনকার মানুষরা বিভিন্নভাবে অন্য মানুষদেরকে ধোকা দিচ্ছে। তাই আমাদের উচিত এইসব বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং সবকিছু অন্ধের মত বিশ্বাস না করার। আর এই সমস্ত কালো জাদু বা শয়তানের চর্চাকে না বলার দরকার ।

Post a Comment

0 Comments