যে ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়| অজানা তথ্য | অবাক করা হাদিস| allah's most favourite 10 days| Hadith that u dont khow about| doa that will surprise u

 শুরু হয়ে গেছে জিলহজ মাস আর কিছুদিন পরেই কুরবানী।জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনে এমন কিছু আমল আছে যা করলে আল্লাহ তাআলা এত খুশি হন যে অন্য কোন সময়ের আমলে আল্লাহ তাআলা এত খুশি হন না ।

আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ১০ দিনের আমল
আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ১০ দিনের আমলের গুরুত্ব 


এই দশ দিন কিছু কিছু কাজ আছে যা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে এবং এমনও কিছু কাজ আছে যা আমাদের করতে হবে এবং তার ফলে যারা কুরবানী দেবে না তারাও কিন্তু কুরবানীর সমান সওয়াব পেতে পারে। আমরা কিন্তু অনেকেই জানি যে রোজার যে শেষ রাত আছে দশটা,সেই দশ রাতের গুরুত্ব কিন্তু অনেক বেশি তেমনি কিন্তু দশটা দিনও আছে যে দিনগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি, এখন আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না সে দিনগুলো ঠিক কখন? সেইটাই হচ্ছে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন অর্থাৎ কুরবানীর আগের দশ দিন।


 এই দশ দিন আপনারা বিভিন্ন ধরনের আমল করতে পারেন ।ইবাদত এবং নেক আমলের প্রথম মৌসুম যেমন রোজার মাস তেমনি ইবাদত এবং নেক আমলের দ্বিতীয় মৌসুম ধরা হয় এই জিলহজ মাসকে ।এই প্রথম ১০ দিনে প্রকৃত মুসলিম বান্দা এবং যারা ঈমানদার লোক আছেন তারা অনেক ধরনের ইবাদত করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ।তাই এ সময় আপনাদের  বিভিন্ন ধরনের আমল করতে হবে। ধরুন প্রচুর কোরআন তেলোয়াত, দান সদকা, প্রথম কয়েকদিন নফল রোজা ,সাথে সাথে একটা সুন্নত ও  মিস করবেন না। যেমন ধরুন আপনার গোঁফ কাটা বা চুল ,নখ ইত্যাদি কাটা। এক কথায় বলা যায় আপনার শরীরে যে কোন ধরনের লোম কোন টাই কাটবেন না।


 এখন আপনাদের মনে অনেকেরই প্রশ্ন আসতে পারে তাতে লাভ কি হবে? আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যারা কিনা কুরবানী দিতে পারবেন না তারাও যদি এই নিয়মগুলো মানতে পারেন তাহলে হয়তো আল্লাহ চাইলে এই ছোট কাজগুলো দাড়াই আপনার কুরবানীর সোয়াব টা আপনার আমলনামায় লিখে দিতে পারে। সুবহানাল্লাহ ।এমনকি এইটা কিন্তু হাদিসেও  বর্ণনা আছে। 

উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা  হতে বর্ণিত যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন তোমাদের মধ্যে যারা যারা কুরবানী দেওয়ার ইচ্ছা রাখে তারা যেন জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর হতে কুরবানী সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিজেদের চুল নখ কাটা থেকে বিরত থাকে, মুসলিম মিশকাত ১৪৫৯ ।

 সুতরাং এর থেকে বোঝা যাচ্ছে ,যে এই কাজগুলো করার মাধ্যমে যে পরিমাণ সওয়াব হবে তা কোরবানি দেওয়ার মতো সমান সওয়াব ।


কুরবানী অর্থ হচ্ছে ত্যাগ  করা এই দিনে সবারই উচিত নিজেদের সওয়াবের আশায় এমনকি আল্লাহকে খুশি করার জন্য  প্রত্যেকটা মানুষ যেন তাদের ভাগ সমান মত পায় সেইগুলো বিবেচনা করে তাদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া। তবে শুধুমাত্র কুরবানী-ই নয় তার আগেও যে কাজগুলো আমাদের আছে সেগুলো আমাদের সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। প্রথম ১০ দিন জিলহজ মাসে যে কাজগুলো আছে সেগুলো আমাদের সঠিকভাবে পূরণ করতে পারলে আমরা অনেক সোওয়াব পাব।এইগুলো তেমন কোন কঠিন আমল না এগুলো খুবই সহজ এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আমল গুলোর মতই ।তবে এর সোয়াব দৈনন্দিন আমলের যে সওয়াব আছে তার থেকে অনেক গুণ বেশি ।


তবে এই দশ দিন যাদের হজ করা সামর্থ্য আছে তারাও হজ করবে ।এইটা সবার সামর্থের উপর নির্ভর করে ।সূরা আত  তাওবাহ , এখানে আল্লাহতালা চারটি মাস  সম্পর্কে বলেছেন ।সূরা আত তাওবাহ  আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনার মাস ১২ টি। আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে তার মধ্যে চারটি হচ্ছে সম্মানিত এটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করোনা ।আর এই সম্মানিত চারটি মাস হল জিলকদ, জিলহজ ,মহরম এবং শেষে হল রজব মাস ।আর আপনারা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন যে এই মাসগুলোর গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে নবীর যুগের যে মুশরিক ছিল তারাও এই মাস গুলোকে  সম্মান করতো ।


 আব্দুল্লাহ ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন,আমি কুরবানির দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। এবং আল্লাহ তায়ালা এই দিনটিকেই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না একটি উটনি কে কিন্তু কুরবানীর দেওয়া যায় না।এই বিষয়ে একদিন এক ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করল, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি যদি একটি উটনি  ব্যতীত অন্য কোন পশু কুরবানির জন্য না পাই তাহলে আমি কি করবো? আপনি কি আমাকে অনুমতি দিবেন উট বাদে উটনিকে কুরবানী দেওয়ার জন্য?এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন যে, না তুমি পারবেনা। তবে তুমি একটা কাজ করতে পারো সেটা হচ্ছে কুরবানীর  আগে ১০ দিন তুমি তোমার মাথার চুল বা হাত পায়ের নখ কাটবে না। এটা বলা হয়েছে যাতে করে আমরা বুঝতে পারি যে আগের ১০ দিন হযরত মুহাম্মদ সাঃ কাটতে মানা করেছেন চুল ও নখ ।আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম আরও বলেন তুমি তোমার গোফও খাটো করবে, সাথে  তোমার নাভির নিচের চুল কাটবে ।এটাই আল্লাহর নিকট তোমার কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। সুবাহানাল্লাহ কত সহজ ভাবেই না আমাদেরকে তিনি বুঝিয়ে দিলেন।সুতরাং এই চুল ও নখ কাটার দ্বারাই তিনি আল্লাহর কাছে কুরবানী সম্পূর্ণ সোয়াব পাবেন।


অতএব এর থেকে এখন আমরা বুঝতে পারলাম জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনে নখ না কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন পশম না কাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ঈদের দিন সেইগুলো পরিপূর্ণভাবে কেটে নিজেকে পরিষ্কার করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।তাই আমাদের সবার উচিত এখন থেকেই জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের যে কাজগুলো আছে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে মানা এবং সেগুলো আমল করা। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন এমন কোন দিবসটি যার আমল জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় হবেন? তখন একজন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে প্রশ্ন করলো যে, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে জিহাদ করা থেকেও কি অধিক প্রিয় এই জিলহজ মাস?আমরা কিন্তু সবাই জানি যে আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয় জিহাদ ।কিন্তু তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি উত্তর দিয়েছে জানেন তিনি বলেছেন হ্যাঁ জিহাদ করা থেকেও অধিক প্রিয় তবে যদি এমন হয় যে তার জান মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হলো এবং এর কোন কিছুই ফেরত নিয়ে এলো না ।


তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা এই জিলহজ মাসটাকে তেমন কোন গুরুত্বই দেয় না। আর অনেক মা বোনরা আছে যারা কিনা এই বিষয়ে জানিনা ।আসলে আমরা এই দিনগুলোকে তেমন কোনো গুরুত্বই দেই না। কিন্তু আমরা যদি জানতাম এই দিনগুলো আল্লাহর কাছে ঠিক কতটা প্রিয় তাহলে আমরা,ভুল করেও একদিনের আমলও বাদ দিতাম না। আজকালকার মহিলারা জানি না যে কিভাবে এই দিনগুলোর সঠিক নিয়ম পালন করতে হয়। তাই যারা যারা পারবেন তারা সবাই এই বিষয়ে অন্যদেরকে জ্ঞান দিবেন কারণ এই  দিনগুলো আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বেশি প্রিয়। যে ছোট ছোট কাজগুলো আছে সেইগুলো আমরা জানি না। অনেকেই অবহেলার মাধ্যমে এই দিনগুলো পার করে দেই , আর  আমরা চুল এবং নখ  কেটে ফেলি। কিন্তু আমরা যে কত বড় ভুল করি তা আমরা জানিনা। আপনারাই ভাবুন সামান্য নখ কাটা এবং চুল কাটা এবং বিভিন্ন ধরনের অঙ্গ প্রতঙ্গের পশম কাটা থেকে বিরত থাকলেই যদি আমরা কোরবানির দেওয়ার মতো সমান সওয়াব পেয়ে থাকি তাহলে আমরা যদি আরো নেক কাজের  আমল গুলো আছে সেগুলো করি তাহলে আমরা কতটুকু সওয়াব পাব?


যে মা বোনদের সমস্যা নেই তারা চেষ্টা করবেন এই দশ দিন রোজা রাখার এবং যে ভাইয়েরা এবং বাবারা আছেন তারাও চেষ্টা করবেন এই দশ দিন সম্পূর্ণ দশটা রোজা রাখার। এবং এইভাবে কিন্তু ছোট্ট ছোট্ট আমল দ্বারা  আপনারা জিলহজ মাসের ১০ দিনের আমল পূর্ণ করতে পারবেন  ।এমনকি এর মাধ্যমে আপনাদের বিভিন্ন ধরনের গুনা মাফ করিয়ে নিতে পারবেন আল্লাহর কাছ থেকে। সুতরাং দেরি না করে এক্ষুনি আমাদেরজিলহজ মাসে নেক আমল গুলোর উপর কাজ করা দরকার। 

Post a Comment

0 Comments